দার্জিলিং: পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর জানলার বাইরে ছুটে চলা প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য, দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন ভ্রমণের আকর্ষণ যেন আজও অমলিন। দুর্গাপুজোর ছুটিতে সেই ঐতিহ্যবাহী রেলযাত্রার স্বাদ নিতে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে। রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ হাজার যাত্রী এই পরিষেবায় সফর করেছেন।
পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতির প্রভাব পড়েছে রেলওয়ের রাজস্বেও। মাত্র ২১ দিনে টয় ট্রেন পরিষেবা থেকে মোট ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা আয় হয়েছে। উৎসবের মরশুমে পাহাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে টয় ট্রেন যে অন্যতম আকর্ষণ, এই পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ বরাবরই চোখে পড়ার মতো।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং পাহাড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই রেলপথে বাষ্পচালিত ও ডিজেলচালিত ট্রেনে ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়। পাহাড়ি জনপদ, সবুজ চা-বাগান এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে টয় ট্রেনের যাত্রা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বরাবরই বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
পুজোর মরশুমে পর্যটকদের এই সাড়া পাওয়ার পিছনে ডিএইচআরের বিভিন্ন পর্যটন পরিষেবাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে টয় ট্রেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় এই পরিষেবার জনপ্রিয়তা স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, এবারের পুজোর মরশুমে ২১ দিনে ১২ হাজার যাত্রীর সফর এবং ১.৪১ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের কাছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন যে এখনও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে, তা স্পষ্ট এই পরিসংখ্যানে। আগামী দিনেও এই জনপ্রিয়তাকে ধরে রেখে পর্যটকদের উন্নত পরিষেবা দেওয়াই ডিএইচআরের অন্যতম লক্ষ্য।

