মাম্পী চৌধুরী, শিলিগুড়ি: প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে শোকাহত পরিবারগুলিকে। সকালে মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছেও দাহকার্যের সুযোগ মিলছে দুপুরে। শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানে তিনটি চুল্লির মধ্যে মাত্র একটি চালু থাকায় এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। এর জেরে একদিকে যেমন মৃতদেহ দাহ করতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে শ্মশানের পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শ্মশানে আসা একাধিক পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে তিনটি চুল্লির মধ্যে দু’টি বন্ধ থাকায় দাহকার্যের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকালে মৃতদেহ নিয়ে পৌঁছেও কোনও কোনও পরিবারকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘ অপেক্ষায় বিরক্ত হয়ে এক ব্যক্তি মৃতদেহ নিয়ে অন্য শ্মশানে চলে গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল চুল্লিগুলি মেরামত করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবারগুলির বক্তব্য, প্রিয়জনকে হারানোর পর এমনিতেই তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই কঠিন সময়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তাই শ্মশানের চুল্লিগুলি দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

শ্মশানের এক কর্মী জানিয়েছেন, সেখানে মোট তিনটি চুল্লি রয়েছে। বর্তমানে একটি চুল্লিতে দাহকার্য চলছে। বাকি দু’টির মধ্যে একটি মেরামত করা প্রয়োজন। সেটি সারানোর জন্য কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞদের আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন তৃতীয় চুল্লিটিতেও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দাহের সময় মৃতদেহ নির্দিষ্ট স্থানে আটকে না থেকে ট্রলির সঙ্গে বাইরে চলে আসার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চুল্লিটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই কর্মীর দাবি, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলছে। বিকল চুল্লিগুলি মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ সবকটি চুল্লি ফের চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত একটি চুল্লির উপর নির্ভর করেই চলছে দাহকার্য। গুরুত্বপূর্ণ এই শ্মশানে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে মেরামতির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিলিগুড়ির বাসিন্দারা।

