পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: পুজো মিটতেই শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। হিলকার্ট রোড ও বিধান রোড পরিদর্শন করে পুজোর গেট খোলা, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে একাধিক নির্দেশের কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। একই সঙ্গে স্কুলপড়ুয়াদের বাইক নিয়ে স্কুলে যাতায়াতের বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিভিন্ন অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী।
শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শনিবার সাত সকালে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট ও পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে হিলকার্ট রোড ও বিধান রোড পরিদর্শন করেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ-সহ প্রশাসনের কর্তারা। পরিদর্শনের পর পুজোর গেট বসানো ও খোলার সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশের কথা জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও উৎসব বা অনুষ্ঠানের সাত দিন আগে গেট বসানো যেতে পারে। তবে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই সেই গেট খুলে ফেলতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেট সরিয়ে না নিলে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
পাশাপাশি, শহরের বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, সেখানে দোকানের সামগ্রী সাজিয়ে রেখে বা অস্থায়ীভাবে ব্যবসা চালিয়ে রাস্তা আটকে রাখা চলবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিরিয়ানি ও অন্যান্য খাবারের দোকান থেকে শুরু করে সাজগোজের সামগ্রীর ডালা ফুটপাত দখল করে থাকা এই ধরনের দোকান ও সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ফুটপাত দখল নয়, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। বিশেষ করে রাতের বেলা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তা দখল করে ব্যবসা এবং অবৈধ দোকান বসানোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বেহাল গাড়ি রাস্তায় নামানো ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো বিষয়েও কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
স্কুলপড়ুয়াদের বাইক নিয়ে স্কুলে যাতায়াতের বিষয়েও সতর্ক করেছেন শঙ্কর ঘোষ। কোনও স্কুলপড়ুয়া বাইক নিয়ে স্কুলে এলে প্রথমে তার বাবা-মাকে ডেকে বিষয়টি বুঝিয়ে সতর্ক করা হবে। তারপরও একই ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বাইক বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে বাইক তুলে দেওয়া এবং তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই কড়া অবস্থান।
এদিকে, প্রতিমা বিসর্জন পর্বে বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং প্রশাসনের নির্ধারিত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটনমন্ত্রী। বিজয়া দশমী ও বিসর্জনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণভাবে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা ও নিয়ম জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বিসর্জনের সময় তাঁর চোখে পড়া বিভিন্ন অসঙ্গতি ও নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন মন্ত্রী। এই বিষয়গুলি সামনে এনে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
পুজো পরবর্তী সময়ে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, গেট সরানোর সময়সীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, সব মিলিয়ে শহরের রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোই প্রশাসনের লক্ষ্য। এবার এই নির্দেশগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে শহরবাসীর।

