মাম্পী চৌধুরী, কার্শিয়াং : পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পর্যটকদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। এবার কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত চালু হল দুটি বিশেষ টয় ট্রেন পরিষেবা। একটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে ‘রেড পান্ডা’ নামে এবং অন্যটি ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে ‘মুক্তধারা’ নামে চলবে। পাহাড়ি পথের মনোরম দৃশ্য, চা-বাগান ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই রেলযাত্রা পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার, ১১ অক্টোবর, কার্শিয়াং রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। ফিতে কেটে এবং নারকেল ফাটিয়ে পরিষেবার সূচনা করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রমেশ কুমার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এবং ডিএইচআরের এডিইএন রঞ্জিত টুডু-সহ রেলওয়ের অন্যান্য আধিকারিকরা। পাহাড়ের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মুক্তধারা’ ডিজেলচালিত ট্রেনটি প্রতিদিন দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং স্টেশন থেকে মহানদীর উদ্দেশে রওনা দেবে। কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণের পাশ দিয়ে যাত্রা করে বিকেল ৪টে নাগাদ মহানদীতে পৌঁছবে ট্রেনটি। সেখান থেকে ফিরে বিকেল ৫টা নাগাদ পুনরায় কার্শিয়াং স্টেশনে পৌঁছবে। অন্যদিকে, বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে ‘রেড পান্ডা’ পরিষেবাটিও কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত চলা জনপ্রিয় টয় ট্রেন পরিষেবার মতো এই দুটি পরিষেবাও প্রতিদিন চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই নতুন রেল পরিষেবা ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে পর্যটন মহলে। রবিবার ‘মুক্তধারা’ পরিষেবায় কার্শিয়াংয়ের একটি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জয়রাইড করানো হয়। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা পড়ুয়াদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। পরিষেবা চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের জন্যও পাহাড়কে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হল।
পরিষেবা চালুর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রমেশ কুমার এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী রেলপথের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত নতুন এই পরিষেবা পাহাড়ের পর্যটনে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে। নিয়মিত পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটকদের ভ্রমণের বিকল্প বাড়বে, পাশাপাশি কার্শিয়াং ও সংলগ্ন এলাকার পর্যটন অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

