কলকাতা: শারদোৎসবের আবহে এবার কলকাতার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছেন মাখনলাল সরকার। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে দেশবাসীর সামনে নতুন করে পরিচিত করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার কলকাতার বালিগঞ্জের ঐক্য সম্মিলনীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। পুজোর তৃতীয়ার দিন তাঁর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হবে এই পুজোর, উৎসবের।
শিলিগুড়ি থেকে বিমানে কলকাতায় আসবেন মাখনলাল সরকার। সোমবার তাঁর কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। এরপর পুজোর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি বালিগঞ্জের ঐক্য সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়াও ঢাকুরিয়ার একটি পুজের উদ্বোধন করবেন তিনি। তাকে ঘিরে উদ্যোক্তাদের মধ্যে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনই তাঁর উপস্থিতি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। বালিগঞ্জের উদ্যোক্তাদের তরফে বিজয় মজুমদার বলেন, রাজ্যে নতূন সরকার গঠনের দিন প্রধানমন্ত্রী যখন তার কথা তুলে ধরলেন, সেদিনই আমরা ঠিক করি এবছর ওনাকে দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করাবো। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি, উনি রাজি হন। ওনাকে দেখার জন্য বালিগঞ্জ মুখিয়ে রয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মাখনলাল সরকারের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বরাবরই কৌতূহল রয়েছে ইতিহাস-সচেতন মানুষের মধ্যে। সেই প্রেক্ষাপটে মাখনলাল সরকারকে পুজোর উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নিছক একটি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় ৯ মে মাখনলাল সরকারের অবদান দেশবাসীর সামনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর জীবনের রাজনৈতিক অধ্যায় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ঢলছে এখনো। তাকে নিয়ে লেখা হয়েছে বৈ, তৈরি হয়েছে সিনেমা।
কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনেরও অন্যতম প্রধান উপলক্ষ। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজো কমিটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানিয়ে উৎসবের সূচনা করে। বালিগঞ্জের ঐক্য সম্মিলনীর ক্ষেত্রেও এবারের উদ্বোধন তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
তৃতীয়ার দিন মাখনলাল সরকারের উপস্থিতিতে পুজোর উদ্বোধন ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে ঢাকুরিয়াতেও। হবমিলিয়ে উৎসবের সূচনায় বাড়তি মাত্রা যোগ হতে চলেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে দুর্গোৎসবের এই সংযোগ এবারের পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মাখনলাল পুজোর উদ্বোধক
Previous Articleপড়াশোনার ফাঁকে মাটির দুর্গা গড়ে তাক লাগাল নবম শ্রেণির অরিত
Next Article দূরপাল্লার ট্রেনের পরিচ্ছন্নতায় কড়া রেল

