শিলিগুড়ি : মিটতে চলেছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ! দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ মেটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। সম্প্রতি জোনাল রেলওয়েগুলিকে পাঠানো এক চিঠিতে রেলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে সব ট্রেনের যাত্রাপথের সময়সীমা ৪০ ঘণ্টার বেশি, সেগুলিতে শুধুমাত্র যাত্রা শুরুর সময়ে নয়, গন্তব্যে পৌঁছনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রাপথেই পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে হবে।
এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে প্রাথমিকভাবে হাওড়া-যশবন্তপুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড়-কন্যাকুমারী বিবেক এক্সপ্রেসসহ ১১টি দূরপাল্লার ট্রেনকে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত দীর্ঘ যাত্রাপথে ট্রেনের বেহাল দশা ও শৌচাগারের দুরবস্থা নিয়ে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রশমিত করতেই রেলের এই নয়া উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাত্রাপথে ট্রেনের শৌচাগার পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ছোটখাটো মেরামতির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ কামরাসহ ট্রেনের সমস্ত কোচ থেকে প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর ‘অন-বোর্ড হাউসকিপিং সার্ভিসেস’ (ওবিএইচএস)-এর কর্মীরাআবর্জনা সংগ্রহ করবেন বলে জানানো হয়েছে। তাছাড়া সংগৃহীত আবর্জনা নির্দিষ্ট ‘ক্লিন ট্রেন স্টেশন’ (সিটিএস) বা বর্জ্য নিষ্পত্তি কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। যাত্রাপথে রেললাইনের উপর যাতে কোনও আবর্জনা না ফেলা হয় সেই দিকটিও কঠোরভাবে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যাত্রাপথে বায়োটয়লেটগুলি যাতে ঠিকঠাক কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে নিয়মিত তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও যাত্রাপথেকোনও কামরায় জলের কল বা অন্য কোনও ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সারাতে হাউসকিপিং কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলিতে প্লাম্বার ও ইলেকট্রিশিয়ান প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যাত্রাপথের নির্দিষ্ট স্টেশনে এবং গন্তব্যে পৌঁছনোর পর কামরা ও শৌচাগারের ‘টাইমস্ট্যাম্পড’ (সময় ও তারিখসহ) ছবি তুলে রাখতে বলা হয়েছে। নজরদারিতে ঘাটতি রুখতে হাউসকিপিং পরিষেবাকে সরাসরি ‘রেল মদত’পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সহজেই দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কাজের মূল্যায়ন করা যাবে। গোটা ব্যবস্থাটির তদারকির দায়িত্বে থাকবেন নির্দিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং জোনাল আধিকারিকরা।
নির্দেশিকা অনুযায়ী,হাওড়া-যশবন্তপুর ও ডিব্রুগড়-কন্যাকুমারী বিবেক এক্সপ্রেস ছাড়াও বিশেষ নজরদারির এই তালিকায় রয়েছে অবধ অসম এক্সপ্রেস, দানাপুর-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, রানি কমলাপতি-আগরতলা এক্সপ্রেস, আমেদাবাদ-সহরসা এক্সপ্রেস, পুণে-সুপৌল এক্সপ্রেস, কাটিহার-অমৃতসর আম্রপালি এক্সপ্রেস, পুণে-জম্মু তাওয়াই ঝিলম এক্সপ্রেস, রাজগীর-লোকমান্য তিলক টার্মিনাস এক্সপ্রেস এবং অমৃতসর-সহরসা গরিব রথ এক্সপ্রেস। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামীতে এই তালিকায় আরও বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ রেলের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দূরপাল্লার ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের যাত্রীক্ষোভ মিটতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

