মধ্যপ্রদেশ: ফের খুশির খবর। ভারতে ‘প্রজেক্ট চিতা’-র মুকুটে জুড়ল আরও এক সাফল্য। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে এ দেশে জন্ম নেওয়া একটি স্ত্রী চিতা একলপ্তে পাঁচটি সুস্থ শাবকের জন্ম দিয়েছে। গত৫ অক্টোবর এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে এই সুখবর জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। এই পাঁচটি নতুন শাবকের জন্মের ফলে ভারতে বর্তমানে মোট চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬০, যার মধ্যে ৪১টি চিতার জন্ম হয়েছে দেশের মাটিতেই।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, কুনো জাতীয় উদ্যানে ‘কেজেপি-২১’নামের একটি স্ত্রী চিতা এই পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছে এই ঘটনার একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য রয়েছে। সদ্যোজাত শাবকগুলির বাবা বতসোয়ানা থেকে ভারতে আনা একটি পুরুষ চিতা। ফলে ভারতে বতসোয়ানার চিতার বংশধরের সূচনা হল, যা দেশের ক্রমবর্ধমান চিতা সংরক্ষণে নতুন জিনগত বৈচিত্র্য বা ‘জেনেটিক লিনিয়েজ’যোগ করল। তাছাড়া ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশে চিতা পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছিল, শাবক জন্মের এই ধারাবাহিকতা সেই প্রকল্পের এক বিশাল সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব তাঁর পোস্টে নবজাতক শাবকগুলির ভিডিও শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রজেক্ট চিতা-র সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পশুচিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের কর্মী, ম্যানেজার এবং অন্য সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের একাগ্রতা, প্রতিশ্রুতি এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে এই মুহূর্তগুলি সম্ভব হয়েছে। ছোট্ট শাবকগুলিকে পৃথিবীতে স্বাগত।’’ চিতা সংরক্ষণের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের জন্য তিনি সকল স্তরের বনকর্মীদের প্রশংসাও করেছেন।
ভারতে চিতার বিলুপ্তি ঘটার কয়েক দশক পর, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা এনে এই ‘প্রজেক্ট চিতা’শুরু হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশে চিতার সফল পুনর্বাসন ও বংশবৃদ্ধি। প্রথমদিকে বেশ কয়েকটি চিতার মৃত্যু নিয়ে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হলেও, ধীরে ধীরে এদেশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে তারা সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে কুনো জাতীয় উদ্যানে পরপর এই শাবক জন্মের ঘটনা সেই নিরলস প্রচেষ্টারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

