নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়িঃ নবমীর রাতে বুকস্টলে হামলা, বই ছিঁড়ে ফেলা এবং বামপন্থী মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহল। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার শহরে প্রতিবাদ মিছিল করল বিভিন্ন বামপন্থী দল ও গণসংগঠন। বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, সিপিএম নেতা জীবেশ সরকার-সহ বামপন্থী সংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মী।
বুকস্টলে হামলা এবং বই ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন সিপিএম নেতা জীবেশ সরকার। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বই দেখার অছিলায় পরিকল্পিতভাবে সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। পুলিশের সামনেই বামপন্থী মহিলা কর্মীদের উদ্দেশে কটূক্তি ও অশালীন আচরণ করা হলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই ধরনের ঘটনা শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জীবেশ সরকার বলেন, “এই ঘটনা শুধু বইয়ের উপরে নয়, ফ্যাসিবাদী হামলা। মানুষের মুক্তচিন্তার ওপর আক্রমণ। শিলিগুড়ির ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। মানুষকে সংগঠিত করে এই ঘটনার প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলন চলবে। বিজেপি যত বেশি অপ্রাসঙ্গিক হচ্ছে, তত বেশি গণতান্ত্রিক শক্তিকে আক্রমণ করছে।” সেই সঙ্গে এই ধরনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বুকস্টলে বইয়ের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তবে একই সঙ্গে সিপিএমের বই বিক্রি এবং তাদের প্রতিবাদী আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, সিপিএম বর্তমানে একটি অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক দল। রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই এই ধরনের বিষয় নিয়ে বেশি মন্তব্য করে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে অযথা গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, দশমীর দিন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী ক্যাম্পের কাছে এসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে সেখানে চড়াও হয়। ক্যাম্পের ভিতরে কাচের বোতল ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে কটূক্তি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। এমনকি এই লিখে পুলিশের কাছে লিখিত কোনও অভিযোগও করা হয়নি পুলিশের কাছে।
পরপর এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর বাড়ছে। একদিকে বুকস্টলে হামলার প্রতিবাদে বামেদের আন্দোলন, অন্যদিকে তৃণমূলের ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ, সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমেও শহরের রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

