নয়াদিল্লি : আরব সাগরে বসবাসকারী চওড়া-রিজযুক্ত পাখনাবিহীন শুশুক বা ‘ফিনলেস পোরপয়েজ’-এর জিনগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাপন নিয়ে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ গবেষণা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানের পুকিয়ং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এই সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীটি সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
কেরলের কোঝিকোড় সমুদ্রসৈকতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসা একটি শুশুক থেকেই এই গবেষণার সূত্রপাত। জেডএসআই-এর গবেষক দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটির দেহাবশেষ সংরক্ষণ করে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেটির কঙ্কালটি পরিষ্কার করে জোড়া লাগানো হয়। বর্তমানে সম্পূর্ণ কঙ্কালটি জেডএসআই-এর ওয়েস্টার্ন ঘাট রিজিওনাল সেন্টারে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে। আগামী দিনে পড়ুয়া এবং গবেষকদের শ্রেণিবিন্যাস ও শারীরস্থান সংক্রান্ত শিক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি ‘ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’নামক বিজ্ঞান পত্রিকায় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার শুশুকের সঙ্গে আরব সাগরীয় শুশুকের বেশকিছু জিনগত উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এর থেকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এদের একটি সম্পূর্ণ পৃথক উপ-জনসংখ্যা থাকার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, এই শুশুকদের সম্ভাব্য বাসযোগ্য এলাকার মাত্র ২৩.৪ শতাংশ বর্তমানে সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চলের (এমপিএ) আওতাভুক্ত।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উপকূলবর্তী অঞ্চলে শিল্পের যথেচ্ছ প্রসার, মাছ ধরার জালে দুর্ঘটনাবশত আটকে পড়া, জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা এবং ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক দূষণের ফলে এই প্রজাতির অস্তিত্ব ক্রমশ সঙ্কটের মুখে পড়ছে।
এই প্রসঙ্গে জেডএসআই-এর অধিকর্তা ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে এই ধরনের তথ্য উদ্ধার ভারতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।’ অন্যদিকে, জিনগত বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার অধ্যাপক ডঃ শান্তনু কুণ্ডু জানিয়েছেন, ভারতের নমুনা সংগ্রহের দক্ষতা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জিনোমিক্স প্রযুক্তির মেলবন্ধন ভারত মহাসাগরের সামুদ্রিক প্রাণীদের নিয়ে গবেষণার ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।
এদিকে, ফিনলেস পোরপয়েজছাড়াও বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণীদের বাঁচাতে যৌথ গবেষক দলটিআগামী দিনেসমুদ্রে আরও নিবিড় নজরদারি, নিয়মিত সামুদ্রিক সমীক্ষা এবং সংরক্ষিত সামুদ্রিক করিডর সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে।

