নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু। নির্বাচন সদনে তিন সদস্যের এই বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক দিন ধরেই কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে নানা দাবি সামনে এসেছে।
এদিনের বৈঠকে বিশেষ এসআইআর নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এসআইআরের নোটিস পাওয়া ভোটারদের সাধারণ পরিস্থিতিতে শুনানির জন্য ইআরও বা এআরও অফিসে সশরীরে হাজির হতে হবে না। বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলে অনলাইনেই শুনানি করা যাবে। এমনকি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের পরিবর্তে পরিবারের অন্য কোনও সদস্যও শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
শুধু তাই নয়, যাঁদের এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন বিএলওরা। সংগৃহীত নথি কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে আপলোড করা হবে। এরপর ভোটারের যোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। ফলে নোটিস পাওয়া মাত্রই ভোটারকে ইআরও বা এআরও অফিসে ছুটতে হবে না।
এদিন দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের এসআইআর নিয়েও সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ অক্টোবর করা হয়েছে।
এদিকে কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে জোর বিতর্ক চলছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এসআইআর সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও তাঁদের আপত্তির কথা সামনে আসে।
তবে এই অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মতামত, প্রশ্ন বা পরামর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের নথি অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। এসআইআর-সহ গত এক বছরে কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি নিয়েও একই দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন।
এই আবহেই শনিবার তিন সদস্যকে একসঙ্গে বৈঠকে দেখা যাওয়ার পাশাপাশি এসআইআর নিয়ে একাধিক প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হল এদিন। ফলে কমিশনের অন্দরের বিতর্কের মধ্যেই ফুল বেঞ্চের বৈঠক এবং তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

