কলকাতা ও শিলিগুড়ি : রাজনীতিতে কখন যে কী ঘটে তা আন্দাজ করা হয়তো সত্যিই মুশকিল। এ রাজ্যের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে প্রতিমুহূর্তে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হচ্ছে। তবে রাজ্যে যখন দলের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে, ঠিক সেই সময়েই পড়শিরাজ্যের উপনির্বাচনে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামেই মনোনয়ন জমা পড়েছিল। শুক্রবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দলীয় প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ার পর, রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন নাম ও প্রতীকে লড়ছে তৃণমূলের বিবদমান দুই শিবির। টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই অসমের নওগাঁ লোকসভা উপনির্বাচনে থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন ‘মমতাপন্থী’ প্রার্থী আব্দুল সামাদ।
রাজ্যে ’২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে ভিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর দুই শিবিরের দড়ি টানাটানির পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অন্তর্কলহের চূড়ান্ত মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত উপনির্বাচনে কমিশন দলের মূল নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্বাচন কমিশন মমতার নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নাম ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে। তবে শুক্রবার কমিশন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরেই শুরু হয় আসল ‘ট্যুইস্ট’।
নন্দীগ্রাম আসনে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। আগের দিনই তিনি নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। পরে শুক্রবার বিকালে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানিয়ে দেন, তিনি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। যদিও এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ বছরের পুরোনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরইমধ্যে শনিবার সকালে উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান মমতা শিবিরের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘নয়া প্রতীক মিলেছে। তা মানুষকে চেনানো মুশকিল হবে। কর্মীদের নামানো যাচ্ছে না। তাঁদের উপর চাপ আছে। ভোট করব কী করে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি।’ যদিও দুপুরে হঠাৎ মতবদল করে রবিউল জানিয়ে দেন, মমতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তারপরেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন। শনিবার থেকে প্রচারেও নেমে পড়বেন।
এদিকে, ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ‘বাক্সবন্দি’ হতেই শীর্ষ আদালতের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা। কমিশন মূল দলের নাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সুর চড়িয়েছেন। কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে কমিশনকে বিজেপির হাতের পুতুল বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, ‘এটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই নয়, বরং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লড়াই।’ আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও প্রতীক ফ্রিজ করার বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অস্বাস্থ্যকর বলে মন্তব্য করছেন।
এদিকে, রবিউল ভোটে না লড়াই করা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায়, বঙ্গের ২৯ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে মমতা ছাড়া নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে রেজিনগরের প্রার্থীর সেই সিদ্ধান্তে ইতি পড়তেই আর তেমনটা হবে না। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা কটাক্ষ করেছেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিধায়কের কথায়, ‘এদের যে কী সার্কাস চলছে, বোঝা মুশকিল। তবে আমাদের ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে আমাদের প্রতীক খাম নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে।’
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
বাংলার উপনির্বাচনে ” অস্তিত্বহীন” ঘাসফুল
Previous Articleব্রাউন সুগার বিক্রি করতে এসে পুলিশের জালে মা ও ছেলে
Next Article ভারতের ওপর ১০০ শতাংশের শুল্ক খাঁড়া

