সন্তু চৌধুরী, মালবাজার: মূর্তি নদীর নবনির্মিত আর্চ ব্রিজ উদ্বোধনকে ছাপিয়ে মঙ্গলবার নজর কাড়ল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুংয়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ। ২২ সেপ্টেম্বর টিয়াবনের হেলিপ্যাডে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় মিনিটের এই কথোপকথন ঘিরে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনও কথা জানাননি কেউ।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা পরে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মূর্তি ব্রিজের উদ্বোধনস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের পর দ্রুত হেলিপ্যাডের দিকে রওনা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী যখন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই আধিকারিকের মাধ্যমে জানতে পারেন বিমল গুরুং তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন।
এরপর বিমল গুরুংকে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। ফুলের তোড়া নিয়ে এগিয়ে যান বিমল। নিরাপত্তার কারণে প্রথমে রোশন গিরিকে আটকে দেওয়া হলেও মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় তিনিও কাছে পৌঁছন। বিমল গুরুং জানান, আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস। দার্জিলিংয়ের সেন্ট জেমস গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে সূত্রের দাবি, এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে জিটিএ-র পূর্ণ ক্ষমতা এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তোলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি বিমল গুরুং।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সিপিএমের মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, পাহাড়ের কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেই পারেন, তবে পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি। অন্যদিকে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা জানান, এটি মূলত আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে সাক্ষাৎ এবং এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ নেই।
তবে প্রকাশ্য বক্তব্যের বাইরে এই আকস্মিক সাক্ষাৎই এখন পাহাড়ের রাজনীতিতে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

