সুশান্ত গুহ, চ্যাংড়াবান্ধাঃ সপ্তম অষ্টম শতাব্দীতে অসমের নগাও জেলার যোগী জানে ডিমাশা কাছারি রাজার আমলে প্রতিষ্ঠিত চামুন্ডা মায়ের মন্দির আজো এই এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের পীঠস্থান। ডিমাশা কাছারি রাজার বিশাল এলাকা জুড়ে রাজবাড়ী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও ডিমাশা রাজার প্রতিষ্ঠিত মা চামুণ্ডা মন্দির যোগী জান এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সপ্তম অষ্টম শতাব্দীর অর্থাৎ প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে খনন করে সাতটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি স্থান থেকে। অসম রাজ্যে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে অসমের হোজাই জেলার যোগীজান এলাকার বিশাল রাজবাড়ীর ধ্বংসস্তূপ প্রাঙ্গণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে আটটি শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ৮০০ বছর আগে । এরমধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য এই এলাকায় খনন কাজ চালিয়ে ইতিমধ্যে সাতটি শিবলিঙ্গ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করতে পেরেছেন। যোগীযানের বিশাল রাজবাড়ী এলাকার সর্বত্র ধ্বংসস্তূপ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষজন এই এলাকার রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখবার জন্য আসছেন।। জনশ্রুতি প্রায় ৮০০ বছর আগে ডিমাশা কাছারি রাজার আমলে এখানে আটটি শিব মন্দির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথরের চাই ও পোড় ইটের সাহ টেরাকোটায্যে। শিব মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটি ও টেরাকোটার দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য অভূতপূর্ব। মন্দিরের দেয়ালে ইটের গায়ে শিব পার্বতীর খোদাই করা মূর্তি অপূর্ব শিল্প শৈলীর নিদর্শন বহন করছে। ৮০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত রাজবাড়ীর এই শিব মন্দির এলাকা যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে রয়েছে তাতে অনেকের ধারণা ওই আমলে হয়তো ভূকম্পনের ফলে এসব ধ্বংস হয়েছে। অসম রাজ্য সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ এখানে খনন কার্য চালিয়ে সাতটি শিবলিঙ্গ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করেছেন। জনশ্রুতি এখানে আটটি শিব মন্দির ছিল পাশাপাশি।
অসমের যোগী যানের নৌভাঙ্গা এলাকার বিশাল কপিলা নদীর পাড়ে সপ্তম শতাব্দীতে ডিমাশা কাছারি রাজার আমলে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় শ্রী শ্রী মা চামুন্ডা কালী মন্দির। এই মন্দিরে যথাযোগ্য ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এখন প্রতিদিন এখানে পূজো পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষজন এখানে আসেন মা চামুণ্ডা কালীর পুজো দেন। এলাকার মানুষ মনে প্রানে বিশ্বাস করেন শ্রী শ্রী মা চামুণ কালীর এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত। এই মন্দির এলাকার মানুষের ভক্তি ও বিশ্বাসের অন্যতম নিদর্শন। যোগীযানের রাজবাড়ীর এবং মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ এলাকা পরিদর্শনের সময় এলাকার মানুষজনেরা কথা প্রসঙ্গে বললেন সপ্তম অষ্টম শতাব্দীতে ডিমাশা কাছারি রাজারামলে এখানে আটটি শিব মন্দির এবং কপিলা নদীর পাড়ে শ্রী মা চামুণ্ডা কালীর মন্দির স্থাপিত হয়েছিল।। এই মন্দির নির্মাণ করার জন্য বিশাল বিশাল পাথরের চাই পোড়া ইট নৌকায় করে এখানে নিয়ে এসে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ এসব ইতিহাস। রাজবাড়ীর সমগ্র এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে রয়েছে। আসাম রাজ্য সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এই এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা বলে ঘোষণা করেছে। ঝোপঝাড় জঙ্গল এলাকায় ঘিরে থাকা এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো এই অঞ্চলের শতাব্দী প্রাচীন প্রতিদিনের ইতিহাসের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
রাজবাড়ী ধ্বংস হলেও মা চামুন্ডা কালী মন্দির আজও মানুষের বিশ্বাসের পীঠস্থান
Previous Articleসেবকেশ্বরী কালীমন্দিরের আধুনিকীকরণ, পাহাড়চূড়ায় লিফটে দেবীদর্শন
Next Article বিমল–শুভেন্দু সাক্ষাতে পাহাড়ে নতুন সমীকরণের জল্পনা

