সুশান্ত গুহ, চ্যাংড়াবান্ধা: দেশ-বিদেশের পণ্যবাহী ট্রাকের ভিড়ে কার্যত আড়ালে চলে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন চ্যাংড়াবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনের প্রবেশপথের সামনে এশিয়ান হাইওয়ের চার লেনের রাস্তার উপর সারি সারি ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যায় পড়ছেন রেলযাত্রী ও সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, ট্রাকের ফাঁক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্টেশনে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের।
চ্যাংড়াবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশপথের মুখে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় টোটো, অটো কিংবা চারচাকার গাড়ি নিয়েও স্টেশনে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতের দিকে সমস্যা আরও বাড়ে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, শিলিগুড়ি জংশন থেকে বামনহাটগামী লোকাল ট্রেনটি সন্ধ্যা সাতটার সময় চ্যাংড়াবান্ধায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও অনেক সময় রাত আটটা, ন’টা এমনকি আরও দেরিতে পৌঁছয়। ফলে অন্ধকারে স্টেশন থেকে বেরিয়ে ট্রাকের মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অভিযোগ, স্টেশনের বাইরে রেল কর্তৃপক্ষের হাইমাস্ট আলোগুলিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ফলে একদিকে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, অন্যদিকে স্টেশনের প্রবেশপথের সামনে ট্রাকের সারি—দুইয়ে মিলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের বৈঠকে চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বাইপাস পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ের ওই অংশকে ‘আদর্শ রাস্তা’ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে পণ্যবাহী ট্রাক পার্কিং নিষিদ্ধ করার কথাও জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ কার্যত মানা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ৪০-৬০ টন ওজনের ট্রাক একই জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় রাস্তার বিভিন্ন অংশ বসে যাচ্ছে। চ্যাংড়াবান্ধা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাছে স্থানীয়দের আবেদন, স্টেশনের প্রবেশপথে অবিলম্বে ট্রাক পার্কিং বন্ধ করে ‘নো পার্কিং’ বোর্ড লাগানো হোক এবং বন্ধ হাইমাস্ট আলো দ্রুত চালু করা হোক।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

