শিলিগুড়ি : শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পথ কুকুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পশুপ্রেমীরা চাইছেন পথ কুকুর থাকবে তাদের চিরচেনা আশেপাশেই, অন্যদিকে শহরের সাধারণ মানুষ রয়েছেন চরম আতঙ্কে। কারণ পরিসংখ্যানই বলছে শুধু গত তিন মাসে শিলিগুড়িতে ৫ হাজার ৩১১ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের প্রত্যেককেই অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, কামড়ের ঘটনা বাড়লে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও সমস্যা তৈরি হয় নাগরিকদের মধ্যে। অনুমান, বছরে এই সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ছুঁয়ে যায়!
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কী করছে শিলিগুড়ি পুরনিগম? পশুপ্রেমীদের বক্তব্য, কুকুরদের দমন নয়, প্রয়োজন জন্মনিয়ন্ত্রণ ও টিকাকরণ। পুরনিগমের পরিবেশ বিভাগের এটি নিয়মিত দায়িত্ব। জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বীজকরণ
ও ভ্যাক্সিনেশনের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারত। জানা গিয়েছে, একসময় সপ্তাহে একদিন করে এই নির্বীজকরণ ক্যাম্প চালু ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ। এর জেরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শহরে কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ।
শিলিগুড়ি মেয়র গৌতম দেব জানান, পশুদের জন্য হসপিটাল তৈরি হয়েছে। স্থায়ী পশুচিকিৎসক নিয়োগের জন্য প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত অস্থায়ী চিকিৎসক এনে নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশজুড়ে পশুপ্রেমীরা পথে নেমে দাবি তুলছেন কুকুরদের জেলবন্দি না করে তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের পথ খুঁজে বার করতে হবে। এলাকা ভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত জন্ম ও টিকাকরণ প্রক্রিয়া জারি থাকলে কুকুররা হিংস্র হয়ে উঠবে না, বরং নিরাপদে রাস্তায় সহাবস্থান সম্ভব হবে।

