শিলিগুড়ি: উত্তরের শিল্পপতিদের নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ণ মন্ত্রীর করা মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিষ্ফোরক দার্জিলিং জেলা তৃণমূল নেতারা। ভোটের ময়দানে শিল্পপতিদের কার্যত ‘গদ্দার স্বার্থপর’ আক্ষা দিয়ে সোস্যাল মিডিয়েতে ঝাঝালো পোষ্ট করেছেন শাসকদলের প্রথম সারির নেতা। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরজুড়ে। রীতিমত অস্বতিতে জেলা নেতৃত্ব।
সোমবার উত্তরের শিল্পপতিদের নিয়ে শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে বাণিজ্য সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘুরিয়ে শিল্পপতিদের উদ্যোগী হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতির অভিযোগ তোলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নন্ত্রী উদয়ন গুহ। তার বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শিল্প প্রসারে যেমন সাহায্য করছেন, তেমনি শিল্পপতিদের দিক থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হলে উত্তরের শিল্প আরও প্রসারিত হবে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কার্যত শিলমোহর দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শিল্পপতিদের নিয়ে উদয়ণের করা মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হতেই তাতে বিস্ফোরক পোষ্ট করে নিজের মতামত লিখেছেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অসীম অধিকারি ও পুরনিগমে কাউন্সিলর তথা দলে জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত সাহা।
অসীম অধিকারী নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করে লিখেছেন, শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখা শিল্পপতিরা মুখ্যমন্ত্রীর কৃতকর্মের প্রশংসা করে আকাশ পাতাল এক করে ফেলছেন। কিন্তু তারপরও ভোটের সময় জিততে কেন পারছে না তৃণমূল? মন্ত্রী উদয়ন গুহ মুখে না বললেও নিজের ছোট বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শিল্পপতিদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এত কিছুতো পেয়েছেন, এবার আরো কিছু পাওয়ার আশায় ব্যালটের মাধ্যমে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ফিরিয়ে দিন।
একধাপ এগিয়ে শিল্পপতিদের নাম উল্লেখ না করে তাদের কার্যত গদ্দার ও বেইমান বলে উল্লেখ করেছেন কাউন্সিলর জয়ন্ত সাহা। অসীম অধিকারির করা পোষ্টে তিনি আরও লিখেছন, ২০২৬ বিধানসভা ভোটে নিজেরা তো নয়ই, তাদের পরিবারের একটি ভোটও তৃণমূলে পড়বে কীনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
এদিকে শহরে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই উত্তরের শিল্পপতিদের নিয়ে দুইনেতার এহেন পোষ্টে, অনেক তৃণমূল নেতাই বলছেন, “কথাটা মন্দ বলেননি।”

