শিলিগুড়ি : মেয়রের নির্দেশকেও কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস চ্যাটার্জি। প্রাক্তন মেয়র ও বাম কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের পর এবার বাম কাউন্সিলর শরদিন্দু চক্রবর্তী ও মৌসুমি হাজরাকে নিয়ে ফের নিজের ফেসবুক ওয়ালে আপত্তিকর পোস্ট করলেন তিনি। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাম কাউন্সিলররা। শাসক দলের ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এবার আইনি পথে হেঁটে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। যদিও ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় উঠলে ওই তৃণমূল কাউন্সিলর তিন বাম কাউন্সিলরকে নিয়ে করা সমস্ত পোস্ট নিজের ওয়াল থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত পুরনিগমের গত বোর্ড সভাকে কেন্দ্র করে। বুধবার মোশন পর্বে বাম কাউন্সিলরদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বাম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর তাপস চ্যাটার্জি। অভিযোগ ওঠে, তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বেশ কিছু কুরুচিকর মন্তব্য করেন। এই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখেননি খোদ মেয়র গৌতম দেব। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তাপস চ্যাটার্জিকে ভাষা সংযত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু মেয়রের এই নির্দেশেও কার্যত ডোন্ট কেয়ার মনোভাব দেখান তাপস। এরপরই তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে বাম কাউন্সিলরদের নিয়ে একের পর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ করে পোস্ট করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার সকালে নুরুল ইসলামকে নিয়ে প্রথম পোস্টটি করার পর রাতে তা ডিলিট করে দেন। এরপর মাঝরাতে বাম কাউন্সিলর মৌসুমি হাজরা ও শরদিন্দু চক্রবর্তীকে নিয়েও ফের আপত্তিকর পোস্ট করেন। পরে সমালোচনা বাড়লে ওই দুটি পোস্টও ডিলিট করে দেন শাসক দলের এই কাউন্সিলর।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় দলের কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে মেয়র গৌতম দেব ব্যর্থ বলে দাবি করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বাম কাউন্সিলর মৌসুমি হাজরা ও শরদিন্দু চক্রবর্তী উভয়েই জানান, তাপস চ্যাটার্জির পোস্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি যদি এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে থাকেন, তাহলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে যে মেয়র তাঁর নিজের দলের কাউন্সিলরদেরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক রুচির পরিচয় দেয় না। তাঁরা মনে করেন, শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ শিলিগুড়ির সুস্থ রাজনীতিতে কোনোভাবেই শোভা পায় না।

