শিলিগুড়ি : এক যুবককে অপরহরণ করে মুক্তিপন চাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হল পুলিশের গাড়ি চালক সহ ৫ দুস্কৃতী। শুধু তাই নয়, যুবককে অপহরণ করে থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে বেধরক মারধর করার অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের বাগডোগরা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাগডোগরার পুটিমারি এলাকায়। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত এই মাসের ১৬ তারিখ। জানা গিয়েছে পুটিমারি এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে গাড়ির লুকিং গ্লাস ভাঙা নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পরে এলাকার বাসিন্দা নিশান্ত রায় ও বাগডোগরা থানার পিসি পার্টির গাড়ি চালক মুকেশ রায়। ওই বিয়েবাড়িতেই পুলিশের স্টিকার নাগানো গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিয়ে এসেছিল মুকেশ। সেই সময় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ওই গাড়িটির লুকিং গ্লাস নিশান্তের হাত লেগে ভেঙে যায়। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের গাড়ি চালক মুকেশ ও তার সাগরেতরা মিলে নিশান্তকে গাড়িতে তুলে নিয়ে থানায় পিসি পার্টির অফিসে নিয়ে বেধরক মারধর করে। নিশান্তের অভিযোগ, শুধু তারাই নয়, ৪-৫ জন পুলিশকর্মী তাকে মারধরে করে।
এখানেই থেকে থাকেনি পুলিশের গাড়ি চালক। নিশান্তের পরিবারের কাছে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। ২৪ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চলানো হয়। পরে ১ হাজার টাকার ব্যাক্তিগত বন্ডে নিশান্তকে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে জানান নির্যাতিতর জ্যাঠু স্বপন রায়।
এরপরই বাগডোগরা থানায় অপহরণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দায়ের করেন নিশান্তের মা কল্পনা রায়। তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার রাতে গাড়ি চালক মুকেশ রায় সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও, পুলিশের দাবি অভিযুক্ত মুকেশ কোনও পুলিশকর্মী নন। সে বেসরকারি গাড়ি চালক হিসেবে পুলিশের গাড়ি চালায়। তবে ঘটনার দিন বাগডোগরা থানার পিসি পার্টির রুমে যে পুলিশকর্মীরা ছিলেন তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে কমিশনারেট। প্রশ্ন উঠছে কার মদতে একজন গাড়ি চালক এই কাজ করেছে? কি করেই বা সে নিজের গাড়ি, বাইকে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই প্রশ্নগুলোই তুলছে সাধারণ মানুষ।

