শিলিগুড়ি : শহরের মাটিগারায় মাটিগাড়া থানার থেকে মাত্র ৭০ মিটার দূরত্বে সোনার দোকানের সোনা এবং রুপার অলংকার ছিনতাই করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে একের পর এক ডাকাতি, লুঠ ও ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের
মাটিগাড়া থানার
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে সাড়ে নটা নাগাদ ওই দোকানের মালিকের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কেজি রুপো ও দেড়শো গ্রাম সোনা নিয়ে পালায় এক দুষ্কৃতী দল। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। একটি মোটর বাইকে দুই দুষ্কৃতি এসেছিল। তারাই সোনার দোকানের মালিকের কাছ থেকে দুটি ব্যাগে থাকা সমস্ত স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেয়।
দোকান বন্ধ করে নিরাপত্তার কারণে সমস্ত স্বর্ণালংকার এবং রুপার অলংকার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। স্বর্ণ ব্যবসায়ী কুশ বর্মন বলেন দোকানে রাখলে চুরি হতে পারে সেই কারণেই সমস্ত অলংকার বাড়িতে নিয়ে যাই প্রতিদিন। প্রতিদিনের মতো আজকে সমস্ত স্বর্ণালংকার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে গেল।
এই ঘটনা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ৪০ দিনে উত্তরবঙ্গ ও শিলিগুড়ি জুড়ে ঘটে গেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ।
গত ৪০ দিনের কিছু উল্লেখযোগ্য অপরাধের তালিকা:
১৩ জুন, ময়নাগুড়ি: ৫৪ লক্ষ টাকার এটিএম লুঠ।
১৮ জুন, প্রধাননগর: প্রায় ১১ লক্ষ টাকার এটিএম লুঠ।
২২ জুন, হিলকার্ট রোড: প্রায় ২০ কোটি টাকার গয়না লুঠ জুয়েলারি দোকান থেকে।
২৫-২৯ জুন: পরপর ছিনতাই – হায়দরপাড়া, আশিঘর, শান্তিনগর, মেডিকেল, প্রধাননগর এলাকা জুড়ে মহিলাদের গলার মালা ছিনতাই।
২৭ জুন: এনজিপি থানা এলাকায় বাড়িতে চুরি, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি।
২১ জুলাই: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে পাচারের আগে ৫৬ জন মহিলাকে উদ্ধার।
২৩ জুলাই: শিলিগুড়ি বাইপাসে ফের এটিএম লুঠ।
২৭ জুলাই: বিহারে পাচারের আগে শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাস থেকে উদ্ধার ৩৪ জন যুবতী।
২৮ জুলাই: মাটিগাড়া থানা লাগোয়া সোনার দোকানের ১৫ কেজি রুপা এবং দেড়শ গ্রাম সোনার অলংকার লুঠ।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বারবার থানার আশপাশে এমন দুঃসাহসিক অপরাধ ঘটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ক্ষোভ, “থানার পাশেই যদি লুঠ হয়, তাহলে শহরের বাকি অংশে আমরা আর কতটা নিরাপদ?”
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, একাধিক মামলার তদন্ত একযোগে চলছে। তবে শহরবাসীর দাবি, কেবল তদন্ত নয়, চাই দৃশ্যমান নিরাপত্তা ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

