শিলিগুড়ি : পাচারের আগে যুবতী উদ্ধারের ঘটনায় উঠে এল শিলিগুড়ির যোগসূত্র। দিন দলায় উপাধ্যায় গ্রামীন কৌশল্য যোজনা প্রকল্পের আড়ালেই চলছিল এই অপরাধ। শহরের ইস্টান বাইপাশ এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস বানিয়ে সেখান থেকেই চলছিল চক্রের কাজকর্ম। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে উত্তরবঙ্গে কী ফের সক্রিয় নারী পাচার চক্র? যা নিয়ে উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে পুলিশ।
এনজেপি স্টেশনকে ব্যাবহার করে ৫৬ জন যুবতীকে ভিনরাজ্যে পাচারের ছক কষা হয়েছিল। তবে তা বানচাল করে দেয় রেল পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কোলকাতার বাসিন্দা জিতেন্দ্র পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির বাসিন্দা চন্দ্রিমা কর। ম্যারাথন জিজ্ঞেসাবাদে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারিরা জানতে পেরেছে, মহিলাদের স্বনির্ভর করার মতো কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পের ফ্যাঞ্চজি নিয়ে শিলিগুড়িতে অফিস করে বসেছিল কয়েক বছর যাবদ। তাদের মূলত এজেন্টের মাধ্যমের জলপাইগুড়ি কোচবিহার জেলার চা বাগান এলাকার যুবতীদের টার্গেট করত। তাদের এই অফিসে নিয়ে এসে বিনা পয়সায় কিছুদিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ভিন রাজ্যে মাল্টি ন্যাশেনাল চাকরি দেওয়ার নাম নিয়ে যাওয়া হত।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যুবতীদের দক্ষিণ ভারতের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসা হলেও তাদের পাটনা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখান থেকে সড়কপথে তামিলনাডু নিয়ে যাওয়ার ছক কষা হয়েছিল। জেরা মুখে ধৃতরা যদিও, এখনও কেন্দ্রে প্রকল্পের ফ্যাঞ্চাজি সহ স্বেচ্ছাসেবী সংঘঠন সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। এই ঘটনায় পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাইপাশ এলাকার বাসিন্দারা। (বাইট- সন্ধ্যা রায়, স্থানীয় বাসিন্দা)
ঘটনার জাল বহুদূর রয়েছে বলে মনে করছে রেল পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তুলে ৬ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহতির ১৪৩ ধারায় মানব পাচার আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। (বাইট- পারিজাত সরকার, ডেপুটি পুলিশ সুপার)
এদিকে উদ্ধার হওয়া যুবতীরা জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার কোচবিহারের হওয়ায় সেখানকারে জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রথম না এই চক্র আগেও একবার যুবতীদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে জেলাজুড়ে নারীপাচার চক্র মাথা চারা দিলেও কি কারনে জানতেই পারলো না পুলিশ। উঠছে প্রশ্ন।

