কার্শিয়াং : ভূতুড়ে ইতিহাসে মোড়া দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং-এর ডাউহিলে বেড়াতে এসে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল হাওড়ার এক কলেজ পড়ুয়া পর্যটকের। সোমবার ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয় ডাউহিল রোডের ধারে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম সপ্তনীল চ্যাটার্জি। বয়স আনুমানিক ২৩ বছর। হাওড়ার বাসিন্দা সপ্তনীল সঙ্গীদের সঙ্গে শনিবার একটি হোমস্টেতে ওঠেন। পর্যটক দলের সদস্য ছিল ৬ জন। যার মধ্যে ৪ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ। প্রত্যেকেই কলেজ বন্ধু বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৫টা নাগাদ হঠাৎ একটি ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দে ঘুম ভাঙে আশেপাশের বাসিন্দাদের। ছুটে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, হোমস্টের সামনের রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সপ্তনীল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কার্শিয়াং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, উপর থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে। তবে কীভাবে পড়ে গেলেন বা আদৌ পড়ে গিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য। ডাউহিলের ভৌতিক ইতিহাস ও আলো-আঁধারির আবহে এমন একটি মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ স্থানীয়রাও।
ঘটনার পরই পর্যটক দলের বাকি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কার্শিয়াং থানার পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সপ্তনীলের দেহ পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার খবর পেয়ে শিলিগুড়িতে পৌঁছান মৃতের কাকা রিক্তিম চ্যাটার্জি। তিনি জানান, সকালে ফোনে খবর পাই। এখন পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন, পুলিশ যা করার করছে।
তদন্তকারী অফিসারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটা নিছক দুর্ঘটনা না এর পেছনে অন্য কিছু রয়েছে তা স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে।
এদিকে ডাউহিল এমনিতেই তার ভৌতিক ইতিহাসের জন্য পরিচিত। দিনের আলোতেও যেখানকার পরিবেশ নিঃস্তব্ধ, সন্ধ্যা নামতেই গা ছমছমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে এমন এক মৃত্যু রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে।

