শিলিগুড়ি : অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের দপ্তরে ফিরলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিতর্কিত কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ দিলিপ বর্মন। তবে তার অফিসমুখী হওয়া সত্ত্বেও এড়িয়ে গেলেন এদিনের মেয়র ইন কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। শুধু তাই নয়, পুরনিগম ও মেয়রের কাজকর্ম নিয়েও ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন তিনি।
জুলাই মাসে পুরবোর্ডের সভায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা ঘিরে তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মেয়র গৌতম দেব, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার এবং দিলিপ বর্মন। দিলিপ প্রকাশ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলেন মেয়র ও ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় সভাকক্ষ থেকে তাকে বের করে দেন চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী। তারপর থেকেই প্রায় দু’সপ্তাহ নিজের দপ্তরে যাননি দিলিপ। ফলে থমকে যায় ট্রেড লাইসেন্স সহ তার হাতে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি বিভাগের কাজ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বিষয়টি রবিবার প্রথম তুলে ধরে পাহাড়িয়া টাইমস। এতেই আলোড়ন পড়ে যায়।
এর পরদিনই, অর্থাৎ সোমবার সকাল সকাল পুরভবনে হাজির হন দিলিপ বর্মন। যদিও নিজের ঘরে না গিয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটান ট্রেড লাইসেন্স দপ্তরে। পরে তিনি পাহাড়িয়া টাইমকে বলেন, মানুষের দুর্ভোগ মাথায় রেখেই এসেছি। পড়ে থাকা কাজ এগিয়ে নিতে চাই। তবে আজকের মেয়র ইন কাউন্সিল বৈঠকের কথা আমাকে জানানোই হয়নি।
তার আরও দাবি, পুরনিগমে কোনো কাজই হচ্ছে না। মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পুরনো প্রকল্পে রং করে নতুন করে উদবোধন করছেন। আমাকে বাদ দিয়ে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ‘নতুন দিলিপ বর্মন’ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি যেসব অভিযোগ তুলেছিলাম, তা একটাও ভুল নয়। এর জবাব মানুষই দেবেন।
অন্যদিকে, দিলিপের অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র গৌতম দেব জানান, মেয়র ইন কাউন্সিলের বৈঠকের জন্য যেভাবে অন্যদের নোটিশ দেওয়া হয়, সেভাবেই দিলিপবাবুকেও দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে তোলা অভিযোগ নিয়ে তিনি মুখ খুলতে চাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পুর পরিষেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শেষমেশ ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাদের মতে, রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের উচিত দ্রুততার সঙ্গে এই অচলাবস্থার নিষ্পত্তি করা।

