শিলিগুড়ি : অ্যাপের মাধ্যমে ঘুরতে যাওয়ার জন্য নেওয়া হত গাড়ি ভাড়া। তারপর হদিস মিলছিল না সেই গাড়ির! একটার পর একটা গাড়ি উধাও হয়ে যাওয়ায় ঘটনায় অবশেষে তদন্তে নামে শিলিগুড়ি পুলিশের প্রধাননগর থানার আধিকারিকরা। তদন্তে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান।
দুদিন আগে প্রধাননগর থানায় একটি গাড়ি ভাড়া সংস্থা অভিযোগ করে, ঘুরতে যাওয়ার জন্য সেল্ফ ডাইভিং এ গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে ৩ দিন কেটে গেলেও সেই গাড়ি ফিরে আসেনি। যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সেই ভিত্তিতে পুলিশে তদন্তে নেমে কোলকাতার বাসিন্দা সোমনাথ মুখার্জি নামে একজনকে শিলিগুড়ির সমরনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, ধৃত সমরনগর এলাকাতেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে থাকছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শিলিগুড়ি আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সে অভিযান চালয়ে এখনও পর্যন্ত ১৪ টিরও বেশি গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি গাড়ি ইতিমধ্যেই নেপাল পাচার হয়ে গিয়েছে বলেও জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। এই গাড়িগুলি বন্দক রেখে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছে চক্রটি।
এদিকে ধৃতকে টানা জিজ্ঞাসাবাস করে চক্রের আরও তিনজনের নাম উঠে আসে। অভিযান চালিয়ে শনিবার পুলিশ নাগরাকাটার চম্পাকুড়ি চা বাগান এলাকার বাসিন্দা রাজ নার্জিনারি , নীতিন প্রধান ও কলাবাগানের বাসিন্দা পাপ্পু ঝাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি এই চক্রের মাস্টার মাইন্ড ধৃত সোমনাথ মুখার্জি। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে ভাড়ার নাম করে নেওয়া আরও দুটি গাড়ির মধ্যে একটি গাড়ি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ও আরেকটি নেপালে রয়েছে। নেপালে থাকা গাড়িটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সেখানকার সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। ( বাইট- বাসুদেব সরকার, আইসি প্রধাননগর)
পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রটি শুধু শিলিগুড়িতে নয় দেশের আরও নানা প্রান্তে সক্রিয় ছিল। একাধিক গাড়ির নথি জালিয়াতি করে আন্তর্জাতিক পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের রাস্তায় কীভাবে গাড়িগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কারা সাহায্য করছিল— সব দিকেই নজর দিচ্ছে পুলিশ।

