শিলিগুড়ি : জমির পাট্টা হাতে পেয়েও তা ফেরাতে হয়েছে। তার উপর জাতীয় সড়ক তৈরির জন্য বাড়ি ছাড়তে হবে পূর্ত দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন ভেবে কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাঠাৎ নিখোঁজ ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে মহানন্দা নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি্র বাঘাযতীন কলোনিতে। পরিবার ও প্রতিবেশিদের দাবি সরকারি চাপে আত্মহত্যা করেছে তিনি। ঘটনয়ার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মৃত ব্যাক্তির নাম সুরেশ বর্মন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন কলোনির বাসিন্দা। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে সরকারি জমির উপর বসবাস। এদিকে ওই এলাকা বদিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এশিয়ান হাইওয়ের। তাতে বাড়ি ভাঙা যাবে সেটা জানা রয়েছে ওই এলাকার ৩১ পরিবারের। তার বদলে রাজ্য সরকার শিলিগুড়ি পুরনিগমের মাধ্যমে তাদের বিকল্প জমির পাট্টা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ২৮ তারিখ মেয়র গৌতম দেব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই পরিবারগুলির হাতে পাট্টা তুলে দেন। কিন্তু অভিযোগ, পাট্টা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তা আবার ফিরিয়ে নেন পুরনিগম। এতে বাড়ে জটিলতা I
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিশ্চয়তার মাঝে ২ তারিখ কয়েকজন লোক নিজেদের সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় এসে জানিয়ে যান আগামি ৭ দিনের মধ্যে সরকারি জমিতে তৈরি বাড়ি ছাড়তে হবে। এরপরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুরেশ। বৃহস্পতিবার তাকে সারাদিন দেখা গেলেও রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে সুরেশের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারদের দাবি সরকারের দেওয়া মানসিক চাপেই সুরেশের এই পরিণতি হয়েছে। যদিও, গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা বেদব্রত দত্ত। তার দাবি সরকারি কোনও দপ্তর এভাবে মৌখিক কোনও নির্দেশ জারি করে না।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট

