শিলিগুড়ি : ব্যবধান মাত্র এক মাসের। তারমধ্যেই ফের এটিএম লুঠের ঘটনা শিলিগুড়ি শহরে। একই কায়দায় গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম মেশিনের ভল্ট কেটে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুস্কৃতীর দল। তবে পালানোর সময় রাস্তায় টহলরত পুলিশের ভ্যানের নজরে পড়লেও দুস্কৃতীদের ধরতে পারেনি পুলিশ। এলাকার সিসি ফুটেজ দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কমিশনারেট।
বুধবার রাত তিনটে নাগাদ ইস্টান বাইপাসের লোকনাথ বাজারে থাকা রাস্ট্রায়ত্ব ব্যাংক এসবিআইয়ের এটিএমে লুঠ চালায় দুস্কৃতীরা। ব্যাংক সূত্রে খবর প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুস্কৃতীর দল। এলাকার সিসি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে ট্যাক্সি নাম্বারের একটি সাদা রঙের টাটা সুমো গাড়িতে আসে দুস্কৃতীর দল। এটিএমের পাশে থাকা ফাকা জায়গায় গাড়িটি রেখে অপারেশন চালানো হয়। শুধু তাই নয়, অপারেশন যাতে এটিএমের ভেতরে থাক ক্যামেরায় না আসে সে জন্য একই কায়দায় কাল রং করে দেওয়া হয়। এরপর গ্যাসে কাটার দিয়ে ভল্ট কেটে চলে লুঠ। সেই সময় আগুন ধরে যায় এটিএম মেশিনে। খবর পেয়ে দমকল এসে আগুণ নিয়ন্ত্রনে আনে।
এদিকে অপারেশন করে বেরোনোর সময় আশিঘর আউটপোষ্টের পুলিশ ভ্যানের নজরে পড়ে যায় ওই টাটা সুমো। তাদের পিছু নেয় পুলিশ। কিন্তু দুস্কৃতীদের গাড়ির সঙ্গে রেসে পেড়ে ওঠে না পুলিশের মানদাতা আমলের জিপ। কিছুটা তাড়া করার পর থমকে যায় পুলিশের গাড়ি চাকা। জানা গিয়েছে, দুস্কৃতীরা ইস্টার্ন বাইপাস দিয়ে আসিঘর মোড় হয়ে ঘোগোমালি হয়ে দ্রুতগতিতে বেড়িয়ে যায়। এদিকে ঘটনাস্থল আশিঘর আউট পোস্টে থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দুরত্বে হওয়ায় ফের পুলিশের নজরদারী নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শু্রু করেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইসি ভক্তিনগর, এসিপি ইস্ট রবিন থাপা এবং ডিসিপি ইস্ট রাকেশ সিং। রবীন থাপা জানান, দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে,পুলিশ তাড়া করেছিল। কমিশনারেটের প্রতিটি থানার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলা, আলিপুরদুয়ার জেলা, দার্জিলিং জেলা, উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। (বাইট- রবীন থাপা, এসিপি)
যদিও ব্যাংকের তরফে এখনও পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ১৮ জুন শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানা এলাকায় একটি এটিএম লুটের ঘটনা ঘটে। লুঠ হয় ১১ লক্ষ টাকা। ২২ জুন শিলিগুড়ির বিধান জুয়েলারিতে লুটের ঘটনা ঘটে। লুট হয় ১১ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার। তার আগে ১৩ তারিখ ময়নাগুড়িতে ৫৪ লক্ষ টাকা এটিএম লুটের ঘটনা ঘটে। স্বাভাবিক ভাবে এটা স্পষ্ট দুস্কৃতীদের আবার টার্গেট শিলিগুড়ি। এখন এটাই দেখার কত তাড়াতাড়ি দুষ্কৃতীদের ধরতে ধরতে সক্ষম হয় শিলিগুড়ি পুলিশ।

