শিলিগুড়ি : যেখানে গোটা রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ বেড়েছে, সেখানে ব্যতিক্রমী নজির গড়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১৯। মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর এই পরিসংখ্যান হাতে পেয়ে খুশি মেয়র গৌতম দেব।
শুক্রবার শহরে ভেক্টরবাহিত রোগ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মেয়র। উপস্থিত ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ তুলসী পামানিক, মহকুমাশাসক সহ পুর ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে ডেঙ্গুর পাশাপাশি ইঁদুরবাহিত লেপ্টোস্পাইরোসিস রোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, পার্শ্ববর্তী রাজগঞ্জ ব্লকে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০ ছাড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুর এলাকায় এই রোগে আক্রান্তের কোনো ঘটনা সামনে আসেনি। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে চাইছে পুর প্রশাসন।
মেয়র গৌতম দেব জানান, রোগ প্রতিরোধে পুরনিগম প্রস্তুত। রাজগঞ্জে কিছু সংক্রমণ ধরা পড়লেও শহরে এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হননি। মেডিক্যাল কলেজে লেপ্টোস্পাইরোসিস চিহ্নিত করার জন্য পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। গত বছর শিলিগুড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯০০। কিন্তু এবছর এখনও পর্যন্ত তা মাত্র ১৯। এটা পুর কর্মী ও আশাকর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। তবে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরাও। তাঁদের মতে, শিলিগুড়িতে এবার দেরিতে বর্ষা শুরু হয়েছে। জমা জল থেকেই ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী কয়েকমাস বাড়তি নজরদারি চালাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং সক্রিয় নজরদারির মাধ্যমেই শহরবাসীকে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

