শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পারিষদ এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিতর্কিত দীলিপ বর্মনকে ঘিরে বিতর্ক আরুও জটিল আকার নিচ্ছে। শোকজের জবাব জমা দেওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় তিন সপ্তাহ, কিন্তু এখনো পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্ব বা পুরবোর্ডের তরফে তার বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে দীলিপ বর্মন ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ৬ পাতার শোকজের জবাব পাঠান রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে। ওই জবাবে তিনি বিগত বছরগুলিতে নিজের প্রতি দলের বঞ্চনার’প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।এদিকে, শোকজের পর থেকেই পুরভবনে নিজের দপ্তরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন দীলিপ। ফলে ট্রেড লাইসেন্স সহ তার হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, এরই মাঝেই সামনে এসেছে জাল ট্রেড লাইসেন্স তৈরির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পুরবোর্ডের এক সভায়, যেখানে অবৈধ নির্মাণ ভাঙা বন্ধ করা নিয়ে মেয়র গৌতম দেব এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন দীলিপ বর্মন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান প্রণব চক্রবর্তী। এরপর একাধিকবার মেয়র ও ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন দীলিপ, যা ঘিরে দলে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়।রাজ্য নেতৃত্বের তরফে যদিও তদন্ত চলার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় স্তরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পুরনিগমে দীলিপকে মেয়র পারিষদ পদে রাখা হবে কি না, সে নিয়েও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। মেয়র গৌতম দেব এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিজের অবস্থানে অনড় দীলিপ। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আমি কোনও ভুল করিনি। যারা ভুল করেছেন, তারা নিজেরাই বুঝে নিন। কাউন্সিলর হিসেবে ওয়ার্ডের সব কাজ করছি।
অন্যদিকে দলের একাংশ নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ব্যক্তিগত বা দলগত দ্বন্দ্বের ফলে কেন পুরনিগমের পরিষেবা ব্যাহত হবে? তাঁদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই অচলাবস্থার সমাধান করা হোক I

