শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি থেকে যুবতী পাচারের ঘটনায় নয়া মোড়। পুলিশের হাতে এসে পৌছেছে তামিলনাড়ুর গার্মেন্টস কোম্পানির অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার। স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন সত্যি কী চাকরি দেওয়া হত যুবতীদের? নাকি চাকরির আড়ালে পাচারেরই ছক কষা হয়েছিল। যদিও, পুলিশ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রত্যেককেই সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এনজেপি থেকে যুবতী পাচারের ঘটনার সপ্তাহ না ঘুরতেই শিলিগুড়ি জংশন এলাকা থেকে প্রধাননগর থানার পুলিশ তেরাই ডুয়ার্সের ৩৪ জন যুবতীকে উদ্ধার করে। তাদের পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি জেরার মুখে তারা স্বীকার করেছে যুবতীদের তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল রাচি হয়ে। তাদের রাচি অবধি নিয়ে যেতে পারলে মিলত যুবতী পিছু ৪ হাজার টাকা।
এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের হাতে এসেছে তামিনাডুর গার্মেন্ট কোম্পানির অ্যাপয়নমেন্ট লেখার। যদিও সেই কাগজের সত্ত্বতা খুজে পাচ্ছে না পুলিশ। ডিসিপি ( ওয়েন্ট) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। সেগুলি নথি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের আদালতে তুলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার হওয়া গৌতম রায়ের দাবি নারি পাচারের কোনও ঘটনা নয়। যুবতীদের নিয়ে যাওয়ার সমস্ত বৈধ কাগজপুলিশের কাছে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ( বাইট- গৌতম রায়, অভিযুক্ত)
গৌতমের মায়ের দাবি, তামিলনাড়ুর কোম্পানিতে তার ছেলে ১০ বছর ধরে কাজ করছে। এর আগেও বহু যুবতীকে নিয়ে গিয়ে চাকরি দিয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক।
তবে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশকিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যুবতীদের নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত নথিও পুলিশের হাতে এসেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া যুবতীদের ইতিমধ্যেই তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে পাচারের আগে যুবতী উদ্ধার, পুলিশের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছন কমিশনারেটের শীর্ষ কর্তারা।

