শিলিগুড়ি : এটিএম লুঠের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো শিলিগুড়িতে। ময়নাগুড়ি এটিএম কাণ্ডর রেশ কাটতে না কাটতেই শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংকের এটিএম থেকে কয়েক লক্ষটাকা লুঠ করল দুষ্কৃতীরা। শিলিগুড়ি চম্পাসারি এলাকায় এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনা তদন্ত নেমেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে আন্ত রাজ্য সীমানা গুলোতে। সাহায্য চাওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির পার্শ্ববর্তী জেলা পুলিশেরও।
দুদিন আগেই ময়নাগুড়ি জেলায় এটিএম লুঠের ঘটনা ঘটে। রীতিমতো গ্যাস কাটার দিয়ে ভল্ট কেটে ৫৭ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও পুলিশের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। সেই রেশ না কাটতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো শিলিগুড়ি কমিশনারেট এলাকায়। প্রধান নগর থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে একই কায়দায় এটিএম লুঠ করে পালালো দুষ্কৃতির দল। ওই এলাকায় থাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এটিএমএ-র দুটি মেশিনে গ্যাস কাটার দিয়ে ভল্ট কেটে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। আর এই ঘটনার সূত্র বের করাই এখন কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কাছে।
এদিন সকাল বেলায় এটিএম লুঠের ঘটনাটি নজরে আসে স্থানীয়দের। তারাই দেখতে পান দুটি মেশিন পোড়া ও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। খোলা রয়েছে ভল্টের ট্রে। তারাই খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে বুধবার রাত দুটো থেকে তিনটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীর দল। একটি সাদা রংয়ের ছোট গাড়িতে ৫থেকে ৬ জন এর একটি দল এসে এটিএম এ ঢুকে অপারেশন চালায়। পাশাপাশি থাকা দুটি এটিএম মেশিনের ভল্ট গ্যাস কাটার দিয়ে কাটা হয়। একটি মেশিনের মনিটরের অংশ পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয় দুষ্কৃতীরা এটিএমে ঢোকার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয় সেখানে থাকা সিসি ক্যামেরাগুলো।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আসেন এসবিআই এর আধিকারিকরা। তারা এটিএম মেশিনগুলো খতিয়ে দেখার পর শাটার নামিয়ে দেন। প্রাথমিকভাবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন দুটি এটিএম মেশিন মিলে সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা লুঠ করেছে দুষ্কৃতীরা। যদিও সেখানে কোন নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একইভাবে প্রধান নগর থানার পুলিশের এলাকা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

